‘এএএ’ রেটিং-প্রাপ্ত প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল

বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপে প্রতিষ্ঠিত অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানও নানা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে, অথচ গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় চাওয়া ‘আস্থা’।

বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপে প্রতিষ্ঠিত অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানও নানা ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে, অথচ গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় চাওয়া ‘আস্থা’। শুধু লেনদেন বা প্রযুক্তিতে নয়, তারা এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখতে চান, যেখানে সঞ্চয় ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাকবে। এ আস্থার স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ (সিআরএবি) থেকে প্রাইম ব্যাংক পেয়েছে দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ১’।

এএএ রেটিং গ্রাহক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রকদের বার্তা দেয় যে প্রাইম ব্যাংক শুধু আর্থিকভাবে স্থিতিশীল নয় বরং পরিকল্পিত, স্থিতিশীল ও প্রতিকূল সময়েও টিকে থাকতে সক্ষম। এটি প্রমাণ করে যে প্রাইম ব্যাংক শৃঙ্খলা, দূরদর্শিতা ও নৈতিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হয় এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ব্যবহারিক অর্থে ‘এএএ’ রেটিং প্রাপ্তি বলতে বুঝায়, প্রাইম ব্যাংক প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও আর্থিক দায়গুলো যথাসময়ে পরিশোধে সক্ষমতা রাখে। সিআরএবির ভাষ্যমতে, যারা ‘এএএ’ রেটিং পায়, তাদের আর্থিক সক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে তারা ঝুঁকির মধ্যেও নির্ভরযোগ্যভাবে সময়মতো আর্থিক দায় পরিশোধে সক্ষম। একইভাবে এসটি-১ রেটিং-প্রাপ্তির অর্থ হলো স্বল্পমেয়াদি দায়গুলো সময়মতো পরিশোধের ‘সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা’ বিদ্যমান।

প্রাইম ব্যাংকের ‘এএএ’ রেটিং অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কয়েক দশকের ধারাবাহিক আর্থিক দায়িত্বশীলতা। ১৯৯৫ সালে যাত্রার পর থেকে ব্যাংকটি শৃঙ্খলা, সুশাসন ও গ্রাহকসেবার প্রতীক হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছে। সময়ের সঙ্গে ব্যাংকটি সফলভাবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক মন্দা, মহামারীর ধাক্কা কিংবা সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ধৈর্য ও পূর্বনির্ধারিত কৌশলের মাধ্যমে মোকাবেলা করেছে। ব্যাংকটি সবসময় স্বল্পমেয়াদি মুনাফার চেয়ে স্টেকহোল্ডারদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করেছে।

পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনার ফলেই প্রাইম ব্যাংক এমন একটি ব্যাংকিং মডেল বা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে, যা দৃঢ়তা ও প্রাসঙ্গিকতার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়ে অতিরিক্ত সম্প্রসারণে না গিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বেছে নিয়েছে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ। বাজার দখলের অন্ধ প্রতিযোগিতায় না নেমে ব্যাংকটি ধাপে ধাপে স্বচ্ছতা, উদ্ভাবন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সিআরএবি মূলত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন, সম্পদের গুণমান, আয়ের ধারাবাহিকতা, তারল্য ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের মান পর্যালোচনা করে রেটিং দিয়ে থাকে। এর প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রাইম ব্যাংক শুধু মানদণ্ড পূরণই করেনি, বরং তা অতিক্রম করে গেছে।

প্রাইম ব্যাংক মূলধন পর্যাপ্ততার হার নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার চেয়ে বেশি বজায় রাখে, যা যেকোনো সংকটকালে ধাক্কা সামলে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার নিশ্চয়তা দেয়।

প্রাইম ব্যাংক অপরিশোধিত সর্বনিম্ন ঋণ হার বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা সম্ভব হয়েছে মূলত ব্যাংকের সতর্ক ঋণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণে। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ঋণগ্রহীতাদের থেকে দূরে থেকে ও ঋণ পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক তার সম্পদের গুণমান ধরে রেখেছে।

পর্যাপ্ত তারল্য রিজার্ভ ও স্থিতিশীল আমানত ভিত্তির মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক সহজেই তার সব স্বল্পমেয়াদি আর্থিক দায় পরিশোধে সক্ষম। পাশাপাশি ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালন পদ্ধতি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করে, যা খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আয় বাড়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে।

প্রাইম ব্যাংকের দায়িত্বশীল পরিচালনা পর্ষদ, ম্যানেজমেন্টের ক্ষমতায়ন ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতের ধারাবাহিকতা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে। এ ব্যাংকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে শুধু একটি দাপ্তরিক কার্যক্রম হিসেবে দেখা হয় না, বরং সব কার্যক্রমে এটা অনুসরণ করা হয়। যদিও বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রকদের জন্য ক্রেডিট রেটিংয়ের কারিগরি দিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ, তবে ‘এএএ’ রেটিংয়ের সবচেয়ে অর্থবহ গ্রাহকদের জন্য।

আরও